লম্বা ট্যুরে যাচ্ছেন? এই চেকলিস্ট ছাড়া বের হবেন না!

শপিং কার্ট

অর্ডারের জন্য নির্বাচিত পন্যের তালিকা

সর্বমোটঃ

বাইক বা প্রডাক্টস খুঁজুন

টিপস

লম্বা ট্যুরে যাচ্ছেন? এই চেকলিস্ট ছাড়া বের হবেন না!

Long tour checklist for bikers

ট্যুরের পরিকল্পনা শুনলেই মন নেচে ওঠে। কক্সবাজারের সৈকত, সাজেকের মেঘ, বা শ্রীমঙ্গলের চা বাগান। কিন্তু মাঝপথে পাংচার, ছেঁড়া ক্যাবল বা হারানো কাগজপত্র পুরো আনন্দ মাটি করে দিতে পারে।

ভালো ট্যুরের রহস্য হলো ভালো প্রস্তুতি। নিচের চেকলিস্টটি সংরক্ষণ করে রাখুন এবং প্রতিটি ট্যুরের আগে মিলিয়ে নিন।

ট্যুরের এক সপ্তাহ আগে: বাইক চেকআপ

  • ইঞ্জিন অয়েল: বদলানোর সময় কাছাকাছি হলে আগেই বদলে নিন।
  • এয়ার ফিল্টার: পরিষ্কার করুন বা বদলান।
  • টায়ার: ট্রেড, ফাটল ও প্রেশার দেখুন।
  • ব্রেক: প্যাড, শু ও ফ্লুইড পরীক্ষা করুন।
  • চেইন: পরিষ্কার করে লুব দিন, ঢিলা মিলিয়ে নিন।
  • ক্যাবল: ক্লাচ ও থ্রোটল মসৃণ আছে কিনা দেখুন।
  • ব্যাটারি ও লাইট: সব বাতি ও চার্জিং দেখে নিন।
  • কুল্যান্ট: লিকুইড কুলড বাইকে লেভেল দেখুন।
  • বোল্ট: সাইলেন্সার, স্ট্যান্ড ও ক্যারিয়ারের বোল্ট টাইট করুন।

বড় সার্ভিস ট্যুরের ঠিক আগের দিন করাবেন না। কয়েক দিন আগে করালে সমস্যা ধরা পড়ার সময় পাবেন।

রাস্তার জন্য টুল কিট

  • বাইকের নিজস্ব টুল সেট
  • প্রয়োজনীয় মাপের স্প্যানার ও স্ক্রু ড্রাইভার
  • প্লায়ার্স ও প্লাগ রেঞ্চ
  • টায়ার রিপেয়ার কিট ও ছোট পাম্প
  • প্রেশার গেজ
  • কেবল টাই ও ইলেকট্রিক টেপ
  • টর্চ
  • পরিষ্কার কাপড় ও গ্লাভস
  • চেইন লুব, ছোট প্যাকে

বাড়তি পার্টস যা সাথে নেবেন

  • ক্লাচ ও থ্রোটল ক্যাবল
  • স্পার্ক প্লাগ
  • ফিউজ সেট
  • হেডলাইট বা ইন্ডিকেটর বাল্ব
  • টিউব টায়ার হলে অতিরিক্ত টিউব
  • ব্রেক ও ক্লাচ লিভার, দূরের পথে

কাগজপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিস

  1. ড্রাইভিং লাইসেন্স
  2. রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস ও ইনস্যুরেন্সের কাগজ, প্রযোজ্য হলে
  3. জাতীয় পরিচয়পত্র
  4. কাগজের ছবি মোবাইলে সংরক্ষণ করুন
  5. ফার্স্ট এইড বক্স ও ব্যক্তিগত ওষুধ
  6. পাওয়ার ব্যাংক ও চার্জার
  7. রেইন কোট
  8. পানি ও শুকনো খাবার
  9. পরিবারকে যাত্রাপথের তথ্য দিন

মালামাল বাঁধার সঠিক নিয়ম

  • ভারী জিনিস ইঞ্জিনের কাছাকাছি, নিচের দিকে রাখুন।
  • দুই পাশের ভার সমান করুন।
  • বাইকিং ব্যাগ শক্ত করে বাঁধুন।
  • লাগেজ নেট ও ইলাস্টিক রোপ ব্যবহার করুন।
  • দড়ির শেষ প্রান্ত চাকার কাছে ঝুলতে দেবেন না।
  • সাইলেন্সারের গরম অংশ থেকে ব্যাগ দূরে রাখুন।
  • ব্যাগ যেন হেডলাইট, ইন্ডিকেটর বা নম্বর প্লেট না ঢাকে।
  • চালু করার আগে অল্প দূর চালিয়ে পরীক্ষা করুন।
  • পিঠে ভারী ব্যাগ রাখবেন না, দীর্ঘ রাইডে এটি ক্লান্তি বাড়ায়।

রাইডের দিনের পরিকল্পনা

  1. আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান।
  2. ভোরে শুরু করুন, দুপুরের রোদের আগে পথ এগিয়ে নিন।
  3. প্রতি এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর বিরতি নিন।
  4. পেট্রোল পাম্পের অবস্থান আগে দেখে নিন।
  5. ট্যাংক অর্ধেকের নিচে নামলে পাম্প পেলে পূর্ণ করুন।
  6. রাত হওয়ার আগে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
  7. দিনে কত কিলোমিটার যাবেন, বাস্তবসম্মত রাখুন।
  8. বিরতিতে চেইন, টায়ার ও বোল্টে এক নজর দিন।

গ্রুপ রাইডের নিয়ম

  • একজন লিড ও একজন সুইপ রাইডার ঠিক করুন।
  • সিঙ্গেল ফাইলে বা স্ট্যাগার্ড ফরমেশনে চলুন।
  • নতুন রাইডারকে মাঝে রাখুন।
  • সামনের জনের সাথে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখুন।
  • হাতের ইশারা আগে ঠিক করে নিন।
  • প্রতিযোগিতা করবেন না, দলের গতি ধীর সদস্য অনুযায়ী হোক।
  • আলাদা হয়ে গেলে কোথায় মিলবেন, সেটি ঠিক রাখুন।

দীর্ঘ পথে শরীরের যত্ন

  • প্রতিটি বিরতিতে হাত, ঘাড় ও পা একটু নাড়ান।
  • পানি পান করুন, পিপাসার জন্য অপেক্ষা করবেন না।
  • দুপুরে ভারী খাবার কম খান, এতে ঘুম কম আসে।
  • রোদে চোখের সুরক্ষা ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
  • ঘুম পেলে অন্তত ২০ মিনিট নিরাপদ জায়গায় বিশ্রাম নিন।
  • হাত অবশ হলে গ্রিপ ঢিলা করুন।

পথে বাইক সমস্যা হলে

  1. আগে রাস্তার পাশে নিরাপদ জায়গায় থামুন।
  2. হ্যাজার্ড বা ইন্ডিকেটর জ্বালিয়ে রাখুন।
  3. পেছনের ট্রাফিকের দিকে পিঠ দিয়ে কাজ করবেন না।
  4. রাতের বেলা অন্ধকারে একা মেরামতের চেষ্টা না করে সাহায্য চান।
  5. নিকটস্থ গ্যারেজ বা পিকআপের নম্বর আগে সংগ্রহ করুন।

পাহাড়ি রাস্তার বিশেষ পরামর্শ

  • নামার সময় নিচু গিয়ার ব্যবহার করুন।
  • ব্রেক দীর্ঘক্ষণ চেপে ধরবেন না।
  • অন্ধ বাঁকে হর্ন দিন ও নিজের লেনে থাকুন।
  • ভেজা রাস্তায় পাথর ও কাদা থেকে সাবধান।

এক নজরে মনে রাখুন

  • বড় সার্ভিস কয়েক দিন আগে করান।
  • টুল কিট ও বাড়তি পার্টস গুছিয়ে নিন।
  • কাগজপত্রের ছবি মোবাইলে রাখুন।
  • ভারী মাল নিচে ও মাঝখানে রাখুন।
  • ক্লান্ত হলে বিরতি নিন, রাতে রাইড কমান।
  • গ্রুপে প্রতিযোগিতা নয়, সমন্বয় করুন।
  • ট্যুর থেকে ফিরে বাইক ধুয়ে, চেইন লুব করে পরের সার্ভিসের তালিকা বানান।
  • কোথাও পেট্রোল কম পেলে বেশি সময় হাতে রাখুন।
  • ট্যুরের আগে অন্তত একদিন আশপাশে চালিয়ে পুরো লোড পরীক্ষা করে নিন।
  • জরুরি যোগাযোগের নম্বর কাগজে লিখে ব্যাগে রাখুন।
  • ট্যুরে নতুন পার্টস পরীক্ষা করবেন না।

সবশেষে মনে রাখুন, গন্তব্যের চেয়ে পথটাই আসল আনন্দ। আপনার ট্যুরের জন্য বাইকিং ব্যাগ ও লাগেজের জিনিসপত্র দেখে নিন বাইক বাজারে। শুভ হোক আপনার পরের ট্যুর।