রাস্তার ঝাঁকুনি কোমরে লাগছে? দোষ সকারের হতে পারে

শপিং কার্ট

অর্ডারের জন্য নির্বাচিত পন্যের তালিকা

সর্বমোটঃ

বাইক বা প্রডাক্টস খুঁজুন

টিপস

রাস্তার ঝাঁকুনি কোমরে লাগছে? দোষ সকারের হতে পারে

Bad rear shock absorber signs

ছোট একটি গর্তে পড়লেই কোমরে জোরে ধাক্কা লাগছে? বাঁকে পেছনের চাকা ভাসছে মনে হচ্ছে? অফিস থেকে ফিরে পিঠে ব্যথা থাকছে?

হয়তো আপনার পেছনের সকার তার কাজের ক্ষমতা হারিয়েছে। সকার শুধু আরামের পার্টস নয়। টায়ারকে রাস্তার সাথে ধরে রাখতেও এটি বড় ভূমিকা রাখে।

সকার কী কাজ করে?

  • স্প্রিং: ঝাঁকুনি গ্রহণ করে এবং বাইকের ভার বহন করে।
  • ড্যাম্পার: ভেতরের তেল ও পিস্টন স্প্রিংয়ের লাফানো নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ফলাফল: চাকা রাস্তায় লেগে থাকে, রাইডার আরাম পান।

ড্যাম্পার নষ্ট হলে স্প্রিং ঠিকই থাকে, কিন্তু বাইক দোলনার মতো লাফাতে থাকে।

সকার দুর্বল হওয়ার ৮টি লক্ষণ

  1. সামান্য গর্তেও ঝাঁকুনি কোমরে লাগছে।
  2. গর্ত পার হওয়ার পরও বাইক কয়েকবার দুলছে।
  3. যাত্রী নিলে পেছনের অংশ বেশি নিচে বসে যাচ্ছে।
  4. সকারের গায়ে তেলের দাগ দেখা যাচ্ছে।
  5. বুশিং থেকে ঠক ঠক শব্দ আসছে।
  6. বাঁকে বাইক অস্থির লাগছে।
  7. দ্রুত গতিতে ব্রেক করলে পেছনের চাকা লাফাচ্ছে।
  8. পেছনের টায়ারে অসমান ক্ষয় দেখা যাচ্ছে।

নিজেই বাউন্স টেস্ট করুন

  1. বাইক সমতলে দাঁড় করান।
  2. পেছনের সিটে জোরে চাপ দিন, তারপর ছেড়ে দিন।
  3. পেছনের অংশ ধীরে এক বা দুইবারে স্থির হলে সাধারণত ঠিক আছে।
  4. বারবার দুলতে থাকলে ড্যাম্পার দুর্বল হতে পারে।
  5. চাপ দিয়েও না নামলে সকার আটকে থাকতে পারে।

প্রিলোড কী এবং কীভাবে সেট করবেন?

অনেক বাইকের সকারে একটি ঘোরানো রিং থাকে। এটি দিয়ে স্প্রিংয়ের প্রাথমিক চাপ বাড়ানো বা কমানো যায়। একেই প্রিলোড বলে।

  • একা রাইড: সাধারণত নরম বা মাঝারি সেটিং।
  • যাত্রী নিয়ে: কিছুটা শক্ত সেটিং।
  • ভারী মালামাল নিয়ে: ম্যানুয়াল অনুযায়ী আরও শক্ত সেটিং।
  1. টুল কিটের সি-স্প্যানার ব্যবহার করুন।
  2. দুই পাশের সকার একই ধাপে সেট করুন।
  3. এক পাশ শক্ত, এক পাশ নরম রাখবেন না।
  4. সেটিং বদলানোর পর হেডলাইটের দিকও দেখে নিন।
  5. ধীরে চালিয়ে পরীক্ষা করুন।

সকার দ্রুত নষ্ট হয় যেসব কারণে

  • নিয়মিত ক্ষমতার বেশি মালামাল নেওয়া
  • তিনজন নিয়ে চলা, যা নিরাপদও নয়
  • গর্ত ও স্পিড ব্রেকারে বেশি গতিতে যাওয়া
  • পিস্টন রডে মরিচা ও ধুলা জমা
  • রডে আঁচড় লাগা
  • দীর্ঘদিনে তেল ও সিল পুরোনো হয়ে যাওয়া

রাস্তায় সুরক্ষার সাথে এর সম্পর্ক

  • দুর্বল সকারে চাকা গর্তে রাস্তা ছেড়ে লাফাতে পারে।
  • লাফানোর সময় টায়ারের গ্রিপ কমে যায়।
  • এতে ব্রেকিং দূরত্ব বাড়তে পারে।
  • বাঁকে নিয়ন্ত্রণ কমে যায়।
  • হেডলাইটের দিক বদলে অন্য চালকের চোখে আলো লাগতে পারে।

নতুন সকার বেছে নেওয়ার নিয়ম

  • বাইকের মডেল ও ভার্সন অনুযায়ী মিলিয়ে নিন।
  • সকারের দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত রাখুন। লম্বা বা ছোট সকারে বাইকের ভারসাম্য বদলে যায়।
  • সিঙ্গেল সকার ও ডুয়াল সকারের ফিটিং আলাদা।
  • গ্যাস ও সাধারণ অয়েল ড্যাম্পড সকারের পার্থক্য দেখে নিন।
  • দুটি সকারের বাইকে জোড়া ধরে বদলান।
  • বুশিং ও বোল্টের অবস্থাও দেখুন।

বদলানোর সময় মনে রাখুন

  1. বাইক নিরাপদে ডাবল স্ট্যান্ডে রাখুন।
  2. একটি করে সকার খুলুন, যেন সুইং আর্ম না পড়ে।
  3. বোল্ট মাপমতো টাইট করুন।
  4. বুশিং দিকমতো বসান।
  5. লাগানোর পর চেইনের ঢিলা ও ব্রেক দেখে নিন।
  6. কিছু দূর চালিয়ে বোল্ট আবার পরীক্ষা করুন।

রাইডারদের সাধারণ প্রশ্ন

  • সকার কতদিন চলে? রাস্তা, ভার ও মানের উপর নির্ভর করে। কিলোমিটারের বদলে বাউন্স টেস্ট ও লিক দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
  • সকার শক্ত করলে কি বাইকের স্থিরতা বাড়ে? শুধু ভার অনুযায়ী ঠিক সেটিং হলে বাড়ে। একা চালানোর সময় খুব শক্ত সেটিং রাখলে চাকা গর্তে লাফাতে পারে।
  • লিক করা সকার মেরামত করা যায়? কিছু সকারে সিল ও তেল বদলানো যায়। তবে অনেক সিল করা সকার মেরামতের উপযোগী নয়।
  • সকারের স্প্রিং ঠিক আছে, তবুও ঝাঁকুনি কেন? ড্যাম্পার বা বুশিং নষ্ট হতে পারে। টায়ারের বাতাসের চাপ ঠিক আছে কিনাও দেখে নিন।
  • নিচু বাইকের জন্য ছোট সকার লাগাবো? বিষয়টি পরামর্শযোগ্য নয়। এতে সাসপেনশনের চলাচল কমে যায়, আর মাটিতে ঘষা লাগার ঝুঁকি বাড়ে।

গর্তভরা রাস্তায় চালানোর কৌশল

  1. গর্ত দেখলে আগেই গতি কমান।
  2. গর্তে পড়ার ঠিক আগে ব্রেক ছেড়ে দিন, যেন সাসপেনশন কাজ করতে পারে।
  3. হাঁটু দিয়ে ট্যাংক হালকা ধরে ভারসাম্য রাখুন।
  4. পাথরের রাস্তায় ফুট পেগে ভর দিয়ে শরীর একটু তুলে নিন।
  5. পেছনের যাত্রীকে আগেই সতর্ক করুন।

কেনার আগে মেকানিককে যা দেখাবেন

  • সুইং আর্ম বুশিং ঢিলা কিনা
  • মাউন্ট বোল্ট বাঁকা কিনা
  • টায়ার ও চাকার অবস্থান সোজা কিনা

যত্নের সহজ অভ্যাস

  • ধোয়ার পর রড শুকিয়ে মুছে দিন।
  • লিক দেখা মাত্র ব্যবস্থা নিন।
  • যাত্রী অনুযায়ী প্রিলোড বদলান।
  • গর্তের আগে ব্রেক শেষ করুন, গর্তে ব্রেক ধরে রাখবেন না।

এক নজরে মনে রাখুন

  • সকার শুধু আরাম নয়, নিয়ন্ত্রণও দেয়।
  • ভার অনুযায়ী প্রিলোড বদলান।

আপনার মেরুদণ্ড ও বাইক দুটোরই যত্ন নিন। মডেল অনুযায়ী সকার বা শক এবজর্বার দেখে নিন বাইক বাজারে। আরামদায়ক রাইড মানেই ক্লান্তিমুক্ত ও নিরাপদ রাইড।

ছবি: andy carter from England, CC BY 2.0, উইকিমিডিয়া কমন্স (আকার পরিবর্তিত)