দামি হেলমেট মানেই কি নিরাপদ হেলমেট? সত্যিটা জানুন
দুর্ঘটনায় মাথা বাঁচানোর শেষ সুরক্ষা হলো হেলমেট। কিন্তু অনেকে কেনেন শুধু রং, ডিজাইন বা বন্ধুর পরামর্শ দেখে। আবার কেউ পুলিশের কথা ভেবে সবচেয়ে সস্তাটিই নিয়ে নেন।
মনে রাখবেন, দামি হলেই নিরাপদ নয়, আর ঢিলা হলে দামিও বৃথা। নিরাপদ হেলমেট বাছাইয়ের সঠিক উপায় জেনে নিন।
হেলমেট কীভাবে আপনাকে বাঁচায়?
- বাইরের শেল: আঘাত ছড়িয়ে দেয়, ধারালো জিনিস ঠেকায়।
- ইপিএস ফোম লাইনার: নিজে চেপে গিয়ে আঘাতের শক্তি শোষণ করে।
- কমফোর্ট প্যাডিং: মাথায় ঠিকভাবে বসিয়ে রাখে।
- চিন স্ট্র্যাপ: দুর্ঘটনায় হেলমেট মাথায় ধরে রাখে।
- ভাইজর: চোখকে বাতাস, ধুলা ও পোকা থেকে বাঁচায়।
কোন ধরনের হেলমেট বেছে নেবেন?
- ফুল ফেস হেলমেট: মুখ ও থুতনিসহ সবচেয়ে ভালো কভারেজ। দুর্ঘটনায় থুতনিতে আঘাতের ঝুঁকি বেশি, তাই এটি সেরা পছন্দ।
- মডুলার হেলমেট: সামনের অংশ উপরে তোলা যায়। চলার সময় এটি বন্ধ ও লক রাখুন।
- ওপেন ফেস হেলমেট: বাতাস ভালো পাওয়া যায়, তবে মুখ খোলা থাকে।
- ক্যাপ হেলমেট: সুরক্ষা সবচেয়ে কম। নিরাপত্তার জন্য এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
সার্টিফিকেশন কী কী দেখবেন?
- DOT, ECE 22.06, SNELL, ISI বা স্বীকৃত মান দেখে নিন।
- লেবেল হেলমেটের পেছনে বা ভেতরে থাকে।
- শুধু স্টিকার দেখলেই হবে না, কারণ নকল স্টিকারও আছে।
- পরিচিত ব্র্যান্ড ও বিশ্বস্ত বিক্রেতা বেছে নিন।
- ইপিএস ফোমের ঘনত্ব ও ফিনিশিং খেয়াল করুন।
- খুব হালকা ও পাতলা শেল সন্দেহজনক হতে পারে।
মাথার সঠিক মাপ নেবেন যেভাবে
- একটি নরম ফিতা নিন।
- কপাল থেকে ভুরুর একটু উপর দিয়ে মাথার চারপাশ মাপুন।
- কানের উপর দিয়ে ফিতা ঘুরিয়ে আনুন।
- সেন্টিমিটারে মাপ লিখে রাখুন।
- ব্র্যান্ডের সাইজ চার্টের সাথে মিলিয়ে নিন।
- দুই সাইজের মাঝে হলে দুটিই পরে দেখুন।
দোকানে ফিটিংয়ের ৬টি পরীক্ষা
- পরার সময় হালকা শক্ত লাগা স্বাভাবিক। কান ও গালে আঁটসাঁট ভাব থাকবে।
- কপালে তীব্র চাপ বা ব্যথা থাকলে ওই সাইজ নয়।
- স্ট্র্যাপ বেঁধে হেলমেট দুই পাশে ঘোরান। শুধু হেলমেট নড়লে হবে না, মাথার চামড়াও একসাথে নড়া উচিত।
- পেছন থেকে সামনে ঠেলে দেখুন, মাথা থেকে খুলে আসে কিনা।
- কয়েক মিনিট পরে থাকুন। চাপের জায়গা বুঝতে এটি জরুরি।
- গালের প্যাড মুখে হালকা লেগে থাকবে।
স্ট্র্যাপ না লাগালে হেলমেট অর্থহীন
- স্ট্র্যাপ থুতনির নিচে শক্ত করে বাঁধুন।
- স্ট্র্যাপ ও থুতনির মাঝে প্রায় দুই আঙুল ঢুকবে।
- ডি-রিং হলে নিয়মমতো ফিতা ঘুরিয়ে লক করুন।
- কাছের দোকানে যাওয়ার সময়ও স্ট্র্যাপ লাগান।
- বেশিরভাগ দুর্ঘটনা বাড়ির কাছেই ঘটতে পারে।
হেলমেটের যত্ন
- ভাইজর হালকা সাবান পানিতে নরম কাপড়ে মুছুন।
- পেট্রোল বা কড়া রাসায়নিক ব্যবহার করবেন না।
- প্যাডিং খোলা গেলে ধুয়ে ছায়ায় শুকান।
- রোদে বা গরম ইঞ্জিনের উপর হেলমেট রাখবেন না।
- লুকিং গ্লাসে ঝুলিয়ে রাখবেন না, এতে প্যাড নষ্ট হতে পারে।
- পড়ে গেলে ক্ষতি পরীক্ষা করুন।
কখন হেলমেট বদলাবেন?
- কোনো দুর্ঘটনায় বড় আঘাত পেলে। ফোম ভেতরে চেপে যেতে পারে, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না।
- শেল ফেটে গেলে।
- ফোম গুঁড়ো হয়ে গেলে।
- স্ট্র্যাপ বা লক ঢিলা হলে।
- প্যাডিং ঢিলা হয়ে হেলমেট নড়লে।
- কোম্পানির নির্ধারিত সময় পার হলে। অনেক ব্র্যান্ড প্রায় পাঁচ বছর পর বদলানোর কথা বলে।
নকল হেলমেট চেনার কিছু ইঙ্গিত
- হাতে নিলে অস্বাভাবিক হালকা মনে হয়।
- ফোম পাতলা, নরম বা হাতে সহজে চেপে যায়।
- স্ট্র্যাপের সেলাই ও রিং দুর্বল।
- ভেতরে কোনো সাইজ বা মানের লেবেল নেই।
- ভাইজর ঢিলা বা দৃষ্টি বাঁকা দেখায়।
- দাম বাজারের তুলনায় অবিশ্বাস্য কম।
রাইডারদের সাধারণ প্রশ্ন
- হেলমেট ঢিলা, ভেতরে মাফলার দেবো? না। এটি সঠিক ফিটিংয়ের বিকল্প নয়। সঠিক সাইজ বেছে নিন।
- গরমে ওপেন ফেসই কি ভালো? আরাম বেশি, সুরক্ষা কম। ভেন্টযুক্ত ফুল ফেস হেলমেট ভালো সমাধান।
- হেলমেট কি চুল পড়ায়? নোংরা প্যাডিং সমস্যা বাড়াতে পারে। পরিষ্কার প্যাড ও পরিষ্কার মাথাই সমাধান।
- পুরোনো হেলমেট কি ধার দেওয়া ঠিক? মাথায় ঠিক না বসলে সুরক্ষা কমে যায়।
যে ভুলগুলো করবেন না
- পুরোনো দুর্ঘটনার হেলমেট কম দামে কেনা
- গ্লাসের উপর গাঢ় টিন্ট করে রাতে চালানো
- হেলমেটে ড্রিল করে যন্ত্র লাগানো
- পেছনের যাত্রীকে হেলমেট ছাড়া নেওয়া
- শিশুকে বড়দের হেলমেট পরানো। তার জন্য বেবি হেলমেট রাখুন
এক নজরে মনে রাখুন
- ডিজাইন নয়, মাপ ও মান দেখে হেলমেট কিনুন।
- ফুল ফেস হেলমেট সবচেয়ে ভালো কভারেজ দেয়।
- স্ট্র্যাপ না লাগালে হেলমেটের সুরক্ষা অর্থহীন।
- বড় আঘাত পাওয়া হেলমেট আর ব্যবহার করবেন না।
- প্রতি রাইডে, যত ছোট পথই হোক, হেলমেট পরুন।
- কেনার সময় দোকানে কয়েক মিনিট পরে দেখুন।
মাথার জন্য কোনো স্পেয়ার পার্টস পাওয়া যায় না। তাই আপনার মাপের সঠিক হেলমেটটি বেছে নিন বাইক বাজারের ফুল ফেস হেলমেট সংগ্রহ থেকে।